সীতাকুন্ডে গাছ কাটার তদন্তে আসা সরকারী কর্মকর্তার সামনেই চেয়ারম্যান ও মেম্বার গ্রুপের মারামারি, আহত ১০, আহত ১০

সীতাকুন্ডে গাছ কাটার তদন্তে আসা সরকারী কর্মকর্তার সামনেই চেয়ারম্যান ও মেম্বার গ্রুপের মারামারি, আহত ১০, আহত ১০
সীতাকুন্ডে গাছ কাটা নিয়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বার গ্রুপের মারামারি, আহত ১০

সীতাকুন্ড প্রতিনিধি ।।

সীতাকুণ্ডের ৮নং সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পরিষদের শতাধিক গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা  কতৃক তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

রবিবার সকালে তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসার মুহূর্তে চেয়ারম্যান গ্রুপ ও মেম্বার গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হলে ৩ ইউপি মেম্বারসহ দশজন আহত হয়েছে।

আহতদের উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান স্থানীয়রা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির আহবায়ক উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শামীম আহমদ বলেন,“পূর্ব ঘোষিত তারিখ অনুযায়ি আমরা তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্যরা সকাল ১১টায় ঘটনাস্থলে যায়। যাওয়ার পথে দেখতে পায় এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ধাওয়া করছিল। পরে আমরা চেয়ারম্যান পক্ষের তদন্ত করে চলে আসার পর বাদী পক্ষ ইউএনও স্যারকে ফোন দিয়ে বলেছে উনাদের তদন্ত উপজেলায় করার জন্য। আমরাও স্যারের কথামত উনাদের পরবর্তী সময় দিয়েছি। উভয়ের তদন্ত করার পর আমরা বিস্তারিত  প্রকাশ করবো।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো.শামীম আহম্মদ,সমবায় কর্মকর্তা এম.এ সহিদ ভুইয়া ও পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সৌরভ পাল মিঠুন।

এ ঘটনায় নিউজ করার কারণে চেয়ারম্যান গ্রুপের লোকজন জনকণ্ঠ সীতাকুণ্ড নিজস্ব সংবাদদাতার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে নানা ধরণের মন্তব্যে লিপ্ত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জানা যায়, উপজেলার ৮নং সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন পাশবত্বী পুকুর পাড়ে চার পাশে সাবেক চেয়ারম্যানদের লাগানো প্রায় ২৫/৩০ বছরের পুরোনা শতাধিক গাছ গত কয়েকদিন ধরে কেটে বর্তমান চেয়ারম্যান মুনির আহমেদ একক ক্ষমতাবলে বিক্রি করছেন। এর আগেও এই চেয়ারম্যন একক ক্ষমতায় গাছ বিক্রি করেছিলেন। তখন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় এলাকাবাসি আন্দোলন শুরু করলে গাছ কাটা বন্ধ করেন। তারপরও ৪০/৫০টি পুরোনা গাছ বিক্রি করে পরিষদে উচিত মূল্য না দিয়ে কোন রকম নাম মাত্র মূল্য নির্ধারণ করেছেন। আন্দোলনের মুখে তখন গাছ কাটা বন্ধ করলেও ঠিক একই কায়দায় গত কয়েকদিন ধরে গাছ কাটা অব্যাহত রেখেছেন এবং নাম মাত্র মূল্য তালিকা ও নিজস্ব ইজারাদার দিয়ে। গাছ কাটার বিষয়টি দৈনিক জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলেও উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং কমিটির সদস্যদের আগামী সাত কার্যাদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা রবিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করার কথা ছিল। কিন্ত তার আগেই চেয়ারম্যান গ্রুপের সদস্য মেম্বার গ্রুপের সদস্যদের উপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসী হামলায় ইউনিয়ন পরিষদের কফিল উদ্দিন,ইয়াকুবসহ দশজন আহত হয়। আহতবস্থায় তাদের সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেকেè ভর্তি করান।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মিল্টন রায় বলেন, “চেয়ারম্যান কতৃক বৃক্ষ নিধনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই এক পক্ষ অপর পক্ষের হামলায় আহত হয়ে আমার কাছে মুখিক অভিযোগ প্রদান করেন। মেম্বার পক্ষের একজনের আঙ্গুল কেটে যাওয়ার বিষয়টি আমাকে বলেছে। অভিযোগে প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে আমরা তাদের স্ব স্ব লিখিত জবানবন্ধী দিতে বলেছি। উভয়ের সাক্ষাতের পর আমরা ব্যবস্থা নিব।”

উল্লেখ্য,গত ২৪ জুলাই মঙ্গলবার কয়েকজন ইউপি সদস্য বাদী হয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বরাবর সোনাইছড়ি ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একক ক্ষমতাবলে পরিষদের পুকুরের চার পাশে শতাধিক গাছ কেটে ফেলার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তারা লিখেন কোন রকম আইনি প্রক্রিয়া না মেনে চেয়ারম্যান একক ক্ষমতাবলে এসব গাছ কেটে বিক্রি করছেন। বিষয়টি নিয়ে বুধবার দৈনিক জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা তিন সদস্যদের একটি তদন্ত কমিটি করেন। রবিবার তদন্ত কমিটির আসার আগে এক পক্ষের হামলায় অপর পক্ষের কয়েকজন আহত হয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়েন।